বাংলায় লিখি

বৃহস্পতিবার, মার্চ ০৯, ২০১৭

নিরাময়

বিদেশে গিয়েছিলাম এক সেমিনারের কাজে, আসার সময় একটি ছবি দেখেছিলাম বিমানে। একজন আত্ম-বিধ্বংসী মেয়ে, অসুস্থ, অন্ধকার তার হৃদয়, কোন কিছুতেই আস্থা নেই যার, জীবন যার পিছলে গেছে হাত থেকে, টুকরো হয়ে ছড়িয়ে আছে সামনে, তুলতে পারছে না, চাইছে না যেন সে। 

মধ্যবয়েসী। বারবার আত্মহত্যা করতে গেছে, কিন্তু পারেনি। অনেক পরে জানা যায় তার সন্তানকে সে হারিয়েছে।

ছবিটা দেখার পর একটা কবিতা মাথায় এসেছিল সেবার, বিমানেই।

মাথায় খেলে যায় অনেকবার অনেক গল্পে উপন্যাসে পড়া অনেক মেয়ের নানা গল্প। হানা দেয় রবীন্দ্রনাথের স্ত্রীর পত্র, আমার আশেপাশের জোনাকির মতো উজ্জ্বল শিশু মেয়েরা, দারুণ চমক যারা রেখেছিল ছাত্রজীবনে, পরে দেখতে গেলে যাদের আর চেনা যায় না, যেন ছাঁচে ঢালা মাটির পুতুল।

আসলে তা তো নয়। কী হয়? যে নিরাময় লাগত তা কি ওরা পেল?

কে দেবে ওদের স্বস্থতা, স্বস্তি, নিরাময়? মেয়ে হবার সুবাদে, কেউ দেয় না তো, আপনি নিরাময় খুঁজে নিতে হয়। এই কথা শিখতে গিয়ে কারুর কারুর জীবন শেষ হয়ে যায়। বসে থাকে কেউ ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে। সন্তানের দিকে, সংসারের দিকে। উত্তর মেলে না। মিললে ভাল হত। যেন নিরাময়ী হাত তাদের দিকে এগিয়ে আসে।

ছবি দেখার পর নানা চিন্তা মাথায়, সেই কাঁচা কবিতাটা এখানে দিলামঃ

~~
এত অন্ধকার নারীর ভিতর !

সব যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখা 
এত পরিপাটি ভঙ্গুরতা --
প্রকৃতির মতই ভঙ্গুর, শাশ্বত।

আত্মঘাতী তার স্বপ্ন কত মোহনীয়!
পৃথিবীর অপর প্রান্তে কান রেখে 
কেউ তা শোনেনি কখনো।

জলের ভিতরে হারিয়ে যাওয়া তার শরীর 
মৃত্যুর ভিতর তলিয়ে যাওয়া তার অসুখ
খড়কুটো ভেসে ওঠা প্রতিমার ভিজে গন্ধ
কত মৃন্ময়!

ভূমিগর্ভের, হৃৎপিণ্ডের গান শুনতে শুনতে 
তাকে খড়ের গন্ধময়, শাশ্বত হতে দিও।

তাকে ঘিরে পাতার ঘণ্টা বাজুক

একটু ছায়া, কুলায়ে ফিরতে চাওয়া তার ফেরারি হৃদয় 
তাকে নিরাময় দিও।

হতে দিও এলোমেলো, অসময়-অসুন্দর।
রত্নগর্ভ সমুদ্রে ফিরতে দিও তাকে 
তার মোহনাকে ।

১৬ এপ্রিল ২০১৫

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]



এই পোস্টে লিঙ্ক:

একটি লিঙ্ক তৈরি করুন

<< হোম