বাংলায় লিখি

রবিবার, মার্চ ০৫, ২০১৭

মেয়েদের নিয়ে শুচিবাই

মেয়েদের নিয়ে স্বভাবত সমাজের প্রতিটা স্তরে এক ধরণের শুচিবাই থাকে। তাঁরা কোথায় গেল, কতটুকু সময় কাটাল, কার সঙ্গে মিশল, এই সব চিন্তা মোটামুটি বয়ঃসন্ধির সময় থেকে শুরু করে মোটামুটি শেষ বয়েস পর্যন্ত তাঁদের তাড়া করে।

যে সমাজে অন্ধকারে নয়  শুধু, দিনের আলোতেও, ঘরের বাইরে নয় শুধু, ঘরের অন্তরমহলেও মেয়েদের রক্ষা করতে পারে না দৈহিক আত্মিক ও মনন-গত ভাবে, সে সমাজের কাছে এমন রক্ষনশীলতাই আশা করা যায় বোধ করি
এই রক্ষনশীল প্রবণতা যতদিন মেয়েপুরুষ নির্বিশেষে দেখা যায়, ততদিন অতটা খারাপ দেখায় না।


প্রত্যেক যুগে বেয়াড়া মেয়েগুলি বলে বা অন্তত ভাবে, 'মাইণ্ড ইয়োর ওউন বিজনেস।'

কিন্তু কথাটা ওখানে মেটে না। তাঁরা সর্বদা দলে খাটো।

সুরক্ষা এ ভাবে হয় না। সুরক্ষা প্রাণ বা দেহ কেন্দ্র করেও হয় না শুধু।
সুরক্ষার পাঁচিল যে শারীরিক ভাবে একটা বেড়া তৈরি করলেই হয়ে যায়, এমন একটা ভ্রান্ত ধারণা এই সমাজের হয়ত আছে।

শরীরকে একটা জালে আটকালে কিছু দিন পরে মনটাও ধীর শান্ত ও বশবর্তী হবার জন্য তৈরি হয় নিশ্চয়ই। এমন মনস্তাত্বিক একটা হিসেব আছে সমাজের।
নিরাপত্তা-তৎপরতার আড়ালে কি এমন এক ধরণের বিশ্বাস কাজ করে, যে মেয়েদের যে সময় সংসারে কাজ করার, সেবা করার, পড়া করার, বসে থাকার, সে সময় সে চোখের আড়ালে থাকে কেন? কার নির্দেশে? সমাজ তো তাঁকে জবাবদিহিতার নিজস্ব ছাঁচেই রাখতে চায়।

সত্যি বলতে কি, মেয়েদের ব্যাপারে আপাদমস্তক সমাজের এই বিধি এবং মনোভাব দেখে মনে হয় মেয়েগুলির নিজেদের নিরাপত্তাবোধের বুঝি কোন চিন্তা নেই, তাই সমাজকেই উপায়ান্তরে, সেটা করে দিতে হয়।

ওদের ঘটে বুদ্ধি নেই, আছে কিছু ফিমেল হরমোন, যা ওদের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে নিয়ে যাবার জন্য কেবল কাজ করে যাচ্ছে।

তবে সত্যি বলতে কি, আমরা কোন উন্নত দেশে এমন ধারা শুচিবায়ু দেখি না।

সমাজের একমাত্র দায়িত্ববান কাজ হল একটা সুস্বাস্থ্যকর নিরাপদ বাতাবরণ দেওয়া, খবরদারি করা নয়।

বাকি দায়িত্ব প্রত্যেকটা পরিণত মানুষের সমান।

এবার আরেকটা জরুরি কথা - খুব জরুরি

শারীরিক নিরাপত্তা এক মাত্র নয় - নিজের অমূল্য হৃদয়, অতি মূল্যবান চিন্তার জগত, জীবনী শক্তি, সময়, ইচ্ছাশক্তি, অশুভ থেকে বাঁচিয়ে রাখার দায়, নিরন্তর, নিরন্তর ভাবে এক জন মানুষের। মেয়েদেরও - বাই ডিফল্ট। যেহেতু তাঁরাও মানুষ।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, অন্যকে সুরক্ষিত রাখা সকলের দায়িত্ব, আর সে দায়ত্ব পালন খবরদারি করে হয় না। মেয়ে পুরুষ নির্বিশেষে। কিন্তু স্বাধীনতা খর্ব করে নয়।

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]



এই পোস্টে লিঙ্ক:

একটি লিঙ্ক তৈরি করুন

<< হোম