বাংলায় লিখি

বুধবার, মে ১৬, ২০১২

খুচরো চিন্তা

(১)

জীবনের নতুন উপপাদ্য, নিজেকে শেখানোর পর, বাইরে থেকেও যা বর্ষিত বারবার-- নিজের অনুভূতির ওপর গভীর আস্থা রাখার... অনুভূতি, বোধ, বোধি, মানুষের একান্ততার মুহুর্তের কন্ঠস্বর, এই কন্ঠস্বর কে মানতে হয়, জানাতে হয়, ভুলতে নেই, ভুলতে দিতে নেই..| ভুলে যাওয়া, ভুলতে দেওয়া --তাও এক ধরনের হত্যা, নিজেকে, নিজের অন্তরকে হত্যা...| তাড়িত জীবনের মাঝখানে, তান্ডবের ফেলে যাওয়া ভাঙ্গা টুকরোগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে অনুভূতির মত মেয়েলি জিনিসকে নাকি জীবন পরিত্যাগ করে যায়... পরিত্যাগ করে যেতে বলে... কারণ জীবন তো খুবই কঠিন, আর কাঠিন্যের সঙ্গে কঠিন হতে হয়, সেখানে চিন্তার জোর যত, অনুভূতির জোর ততটা নয়...এই সব সদুপদেশ বহুবার বহুবিধ প্রলয়ঙ্কর ভাষায় ও রীতিতে আমি পেয়েছি, কিন্তু নিতে বোধহয় অবশেষে পারিনি...

       (২)
 ইংরিজিতে শব্দটা মিউজ... বাংলায় সুরাহা করতে পারছি না, তাই একে বলতে যাচ্ছিলাম, 'সত্ত্বা' - জানি ঠিক হলো না, তবুও | মিউজ শুধু সত্ত্বা নয়, তার বেশি কিছু, সত্ত্বার সচ্ছ্বতা, আনন্দ সে, প্রজাপতির মত উড়তে উড়তে আসে,...অনুভূতির গহন, ফুরফুরে, সুরেলা ভাবটা নিয়ে ... সে যাহোক.. মিউজ নিয়েই কথাবার্তা এখানে... নিজের অন্তরের সঙ্গে বাতচিত, বা মিউজের সঙ্গে বাতচিত করতে হলে, তাকে তো পেতে হবে | রাত্তিরে ছোট শিশুর হাত ধরে ঘুমোতে নিয়ে যাই, এছাড়া এইরকম প্রাণের উষ্ণতা আর নির্জনতা, একই সঙ্গে, আর কোথায় পাওয়া যাবে এই জটিল, ব্যস্ত জগতটাতে? কারণ মিউজ বড়ই স্পর্শকাতর, ওই হালকা দুলকি চালের মন ভোলানো কথার চটকদারীতে তাকে মোটেও ধরা যায় না, আবার আকাশচুম্বী বড় বড় শব্দের গম্বুজ তুলেও তাকে পাওয়া যায় না... তার জন্য নিভৃতে দেখা করার ব্যবস্থা করতে হয় | সেই সময় এসে দিয়ে যাওয়া তার গুপ্তধনগুলো নিমেষেই হারিয়ে যায়, কর্পুরের মত... সে মুহুর্তে মনে টুকে নিলেও বাকি থাকে সামান্য... কিন্তু তাকে ধরতে হবে, তাকে ধরতে হবে, চাই যে সেই সোনার হরিণকেই |

আর এখন সেই মিউজকে জিজ্ঞাসা করছি বারবার, জীবনে যেখানে সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যেখানে স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে, সেখানে মানুষের বেঁচে থাকার রসদটা কি? মন ভোলানো ঘুমের বড়ি, জলপটি, ধোলাই, সাফাই, কম্প্রমাইজ... নাহ কিছুতে তো মন শান্ত হয় না, প্রশ্নের মৌমাছি ভনভন বন্ধ করে না... বেঁচে আছ, শুয়ে আছ, জেগে আছ, আছ, এই তো প্রাণ, শিশুর সম্পূর্ণ ভালবাসা, তার নিবিড়, মুক্ত সমর্পণ, থেকে জীবনের প্রতি একটা সমীহ, একটা অদ্ভুত বোধ তৈরী হয়... কী সেটা বলা কঠিন... কিন্তু হয়, আর তখন হঠাত এক লহমার জন্য মিউজ আসেন..এক স্বপ্নের মত আলোকবর্তিকা...জীবন এক মুহুর্তের জন্য হলেও সার্থক হয়, সম্পূর্ণ হয়... কোনো ভেক ভেল্কিবাজি দিয়ে নয়, এক পরম সত্যের সঙ্গে নিবিড় আলিঙ্গনের মাধ্যমে... যে সত্যকে প্রায় চেনা যায় না, এমন অন্ধকারে থাকতে হয়.... নিবিড় কালো না হলে, যে ধরা দিতে চায় না...

 

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]



এই পোস্টে লিঙ্ক:

একটি লিঙ্ক তৈরি করুন

<< হোম