বাংলায় লিখি

বুধবার, মার্চ ০৯, ২০১১

৮ মার্চ ২০১১, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কিছু সাদামাঠা ভাবন

বর্ণ নিয়ে বিবাদ হয়, অর্থ নিয়ে বিবাদ হয়, সামাজিক স্তরে স্তরে হাজার বিবাদ মানুষ কে মানুষ থেকে শুধু বিচ্ছিন্ন করে | এই বিবাদের মূলে আছে কিছু না-জানা না-বোঝা বিষয়, যা অহংকার নামক মানুষী এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে | অহংকার -- যা সকল কষ্টের ও পাপের মূল | যে-অহংকার মানুষের অস্তিত্বের সকল স্তরকেই স্পর্শ করে, করে না শুধু মাতৃত্বকে| তাই পৃথিবীর সকল মা একই দুঃখের-অনলে পোড়া, একই আকাশ উপুড়-করা  একক জননী | মাতৃত্বের মধ্যে যেমন বিভেদ নেই, তেমনি, তার মধ্যে ক্ষোভ এবং অভিযোগ নেই | এই জন্য অন্য অনেক ধরনের একাত্মতার সুতো থেকে তা একটু আলাদা | মাদাম কুরী তাঁর মাতৃত্বের দিনেই আরম্ভ করেন তাঁর আশ্চর্য গবেষণা | তাঁর ছিল তিনটি খাতা: একটিতে রাখতেন সংসারের খরচের হিসেব, একটিতে গবেষণা, অন্যটিতে সন্তানের খাওয়ানর, ঘুমানোর ইত্যাদির হিসেব | গবেষণা এবং মাতৃত্ব, দুটি-ই সৃষ্টিশীল ... সম্ভবত, দুটি-ই মানুষের মনন, দায়িত্ব এবং সৃজনশীলতার চর্চা বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে বলেই?

সকল দুঃখই বৃষ্টির মত পবিত্র, মেঘের মত গভীর | কিন্তু কিছু দুঃখ আনন্দের আদল নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকে, কষ্টের বসন ছেড়ে ঋজু হয়ে ওঠে, আলোর চিত্কারে  শিরীষ- শাখার মত সাড়া দেয় বলে, মাঝেমাঝে সেই সব দুঃখে আমরাও পবিত্র হতে পারি | আর তখনই কবিতার জন্ম | মা হবার দৈনন্দিন আটপৌরে ঘটনার মধ্যে পৃথিবী সেই কবিতার সম্ভাবনা লুকিয়ে রেখেছে |

এই দুর্দিনেও কবিতা তাহলে জন্মাতে পারে | `সকল গৃহ হারালো যার', এই শব্দচয় যেখানে আক্ষরিক সত্য, সেই ক্ষেত্রেও, এক অসহায় সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতেও অনেক সময়ই এক বিপন্ন নারী তার মাতৃত্বের ঐশ্বর্যে আশ্চর্য হয়ে যান | আর তখন এক দুঃখ কষ্ট মাখা রক্তের কুন্ডুলির মত কবিতা মাটিতে পতিত হতে থাকে, যেখানে মাতৃত্বের হাত তাকে ব্যগ্র হাতে আঁকড়ে ধরে |

মা হবার যাত্রা যেমন একাকীর, তেমনি তা বিপন্নতার এমন একটি আশ্চর্য কোঠায় নারী কে নিয়ে যায়, যা সব চেয়ে সুঠাম নারী-ও কোনো দিন কল্পনা করেনি| মা হবার যাত্রা তাই এককভাবে যেমন সুখকর নয়, তেমনি তা অশেষ শান্তিময় নয় | যেমন শেকড়ের যাত্রা অন্ধকারে, সকলের অগোচরে, তেমনি মাতৃত্বের যাত্রা চলে বেবাক নিভৃতে, শুধু তথাকথিত নয় মাস নয়, সারা জীবন | আর তখন পাখির প্রাণও আকাশে আকাশে বিচরণ করতে করতে পাদুটো গুটিয়ে স্থিতি খোঁজে মাটিতে, শক্তিসঞ্চয়ের জন্য |

বিষয়টি এমন নয়, যে এই একটি জৈবিক প্রক্রিয়া কিছু নারীকে বিশেষ ভাবে আলাদা করে রেখেছে | এখানে অভিজ্ঞতার আগুন সেই সীতার আগুনের মত - যে না গিয়েছে, তাকে বরণ করা যায় না, বোধের সেই জায়গায় -- যদি না যথেষ্ট সহমর্মিতা থাকে| আকাশের দিকে তাকিয়ে যেমন রক্তক্ষরণ কাকে বলে বোঝা যায় না, এও তেমনি | আটপৌরে হলেও, উপায় নেই, এই এক জৈবিক প্রক্রিয়াগুলির সঙ্গেই পৃথিবীর যাবতীয় সৃষ্টি ও গতি যখন জড়িত, তখন একে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় কি?

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]



এই পোস্টে লিঙ্ক:

একটি লিঙ্ক তৈরি করুন

<< হোম