বাংলায় লিখি

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

শরণার্থী

সকালে উঠে মনে পড়ল কাল রাতেও আমি নিজের শরণার্থী জীবনকে স্বপ্নের আঙ্গিকে দেখে নিয়েছি। পাসপোর্ট হারানো, মাটি হারানো উদ্বাস্তু।

৬ বছরে আফ্রিকায় গিয়েছিলাম। ১০ বছরে অফিশিয়ালি শরণার্থী হিসেবে কেনিয়াতে। উগান্ডায় সামরিক অভ্যুত্থান হচ্ছিল। ভাই পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় মায়ের ভিতরে ঘুমিয়ে ছিল। তার পর একের পর এক দেশে প্রত্যাবর্তন আর দেশ থেকে বিতাড়িত হবার পালা। এক বার নয়।

'সরস্বতী তোমার গলায় বা কলমে আসবেন,' এই ভরসা দিলে হেসে বলতে ইচ্ছে করে, ঠাকুরদার এক শ বছরের সংগীতের রেওয়াজ, তাঁদের সেতার, এস্রাজ, পাখোয়াজ, তবলা, তানপুরা, বাঁশি, তবলা, হারমোনিয়াম, বীণা ---যখন একের পর এক পাকিস্তানী দোসর আর সাম্প্রদায়িক গুণ্ডা-দের হাতে ভেঙ্গেচুরে সামনে লুটিয়ে পড়ছিল, আরও ছয় বছর বেঁচে থেকেও তিনি সরস্বতী-কে দোষী করেননি, --- আর আমার বাবা-পিসিরা সেই দেখে আরও তেজ নিয়ে প্রজ্বলিত হলেন। আমি কোন ছার।

স্বয়ং মাতা নাকি সরস্বতীর আশীর্বাদের মত বাবার (আমাদের) জীবনে অবতীর্ণ হয়ে হাড় ভেঙে গান আর লেখাপড়াকে উপরে বসালেন। মার বাবা দাদু ছিলেন সমাজকর্মী বিবাগী সংসারী। এমন ইস্কুল নেই তাঁর শহরে যেখানে তিনি নিজের জীবনের শেষ কড়ি দান করেননি। তেমনি মামারাও। একদা এক শিল্পী এসে চোখে জল নিয়ে আমাকে জানাল, তোমাকে দেখতে এলাম। যশোরে তোমার মামাদের দেখেছি। নিজের ভাগ্নি পরিচয়ে মাথায় তুলে তারা আমাকে তাদের সাংস্কৃতিক মঞ্চে গান করতে ডেকেছে। মেয়েটি মুসলিম পরিবারের, সেকথা না বললেও আমার বিস্ময় হত না।

দাদু আর মামা সত্যব্রত উদ্বাস্তু হবেন না পণ করে পাকিস্তানী ঘাতক আর দেশে তাদের দোসরদের হাতে নিহত হলেন। যাদের উত্তরসূরিদের জন্য ইস্কুল গড়ে দিয়েছিলেন, সেরকম কারুর হাতে।

শরণার্থী হবার আঙ্গিকে আমাদের মত হিন্দুয়ানী কথা শুনে যাদের খারাপ লাগছে, তাঁরা জানবেন, সেই সব উদ্বাস্তু হবার দুঃস্বপ্ন যখন বাস্তবকে ছাড়ে না, কারণ তারা বাস্তবের চেয়েও বাস্তব, তখন সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি না, ধরণী দ্বিধা হও।

কিছু করার না পেয়ে লিখি, গান করি, কবিতা লিখি, আর অনুবাদ করি। শিশুর সঙ্গে বই পড়ি।

এমনই অথর্ব আমাদের প্রতিরোধ -- সেই বাস্তুহারা সরস্বতীকেই ডাকি যোদ্ধা হিসেবে।

বৃহস্পতিবার, মার্চ ০৯, ২০১৭

রিক্সায়

রিক্সায় দুটো গান গুনগুন করতে করতে ফিরছিলাম, সঙ্গে শিশু।

শিশু তো বন্ধুই, তাই মাঝে মাঝে নানা বিষয়ে যেমন তার মতামত চাই, তেমন জিগ্যেস করলাম গানটা তার ভালো লাগল কিনা। সে জানাল লেগেছে (ভোলানাথের সব কিছু ভালো লাগে)। জানতে চাইলাম, এইটা না আগেরটা তার বেশি ভালো লেগেছে। শিশু কিছু বলার আগেই রিক্সাওলা বলে উঠলেন, 

'প্রথমটা বেশি ভালো!'

পরে তাঁর সঙ্গে আলাপ করলাম। তিনি গান শুনছেন জেনে কেমন যেন কৃতার্থ বোধ করলাম। শান্তিদেব ঘোষ নাকি বলতেন জনরুচির কাছে যেতে। জনরুচি যদি আমাদের গান নির্বাচনে এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে আমাদের আপত্তি নেই। আমরা বটতলায় বসতে পারি আউল বাউল গান নিয়ে!

gratitude to savor

I just wondered.

Normally, we do not get cups filled with gratitude to savor. Compliments we receive are usually back-handed. Goes to show how much we have actually achieved so far.

So after receiving one word of gratitude our world usually changes.

So before this sounds like a complaint, I want to express my gratitude...

We may realize, by way of molecules, we are all made up of the same constituents. Carbon, oxygen, hydrogen, water, minerals. We are all of us made of stars because the sun is a star and the earth is a child of the sun, and we are made of particles of earth. We are also the clouds, because we are water. And then we are very much the timeless lineage of life, of animals which produced food that made us who we are. We are also the books that we read, and the songs we sang and the experiences we shared, and so much more.

So when we thank, we thank all that made us a part of you and you a part of us.

নিরাময়

বিদেশে গিয়েছিলাম এক সেমিনারের কাজে, আসার সময় একটি ছবি দেখেছিলাম বিমানে। একজন আত্ম-বিধ্বংসী মেয়ে, অসুস্থ, অন্ধকার তার হৃদয়, কোন কিছুতেই আস্থা নেই যার, জীবন যার পিছলে গেছে হাত থেকে, টুকরো হয়ে ছড়িয়ে আছে সামনে, তুলতে পারছে না, চাইছে না যেন সে। 

মধ্যবয়েসী। বারবার আত্মহত্যা করতে গেছে, কিন্তু পারেনি। অনেক পরে জানা যায় তার সন্তানকে সে হারিয়েছে।

ছবিটা দেখার পর একটা কবিতা মাথায় এসেছিল সেবার, বিমানেই।

মাথায় খেলে যায় অনেকবার অনেক গল্পে উপন্যাসে পড়া অনেক মেয়ের নানা গল্প। হানা দেয় রবীন্দ্রনাথের স্ত্রীর পত্র, আমার আশেপাশের জোনাকির মতো উজ্জ্বল শিশু মেয়েরা, দারুণ চমক যারা রেখেছিল ছাত্রজীবনে, পরে দেখতে গেলে যাদের আর চেনা যায় না, যেন ছাঁচে ঢালা মাটির পুতুল।

আসলে তা তো নয়। কী হয়? যে নিরাময় লাগত তা কি ওরা পেল?

কে দেবে ওদের স্বস্থতা, স্বস্তি, নিরাময়? মেয়ে হবার সুবাদে, কেউ দেয় না তো, আপনি নিরাময় খুঁজে নিতে হয়। এই কথা শিখতে গিয়ে কারুর কারুর জীবন শেষ হয়ে যায়। বসে থাকে কেউ ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে। সন্তানের দিকে, সংসারের দিকে। উত্তর মেলে না। মিললে ভাল হত। যেন নিরাময়ী হাত তাদের দিকে এগিয়ে আসে।

ছবি দেখার পর নানা চিন্তা মাথায়, সেই কাঁচা কবিতাটা এখানে দিলামঃ

~~
এত অন্ধকার নারীর ভিতর !

সব যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখা 
এত পরিপাটি ভঙ্গুরতা --
প্রকৃতির মতই ভঙ্গুর, শাশ্বত।

আত্মঘাতী তার স্বপ্ন কত মোহনীয়!
পৃথিবীর অপর প্রান্তে কান রেখে 
কেউ তা শোনেনি কখনো।

জলের ভিতরে হারিয়ে যাওয়া তার শরীর 
মৃত্যুর ভিতর তলিয়ে যাওয়া তার অসুখ
খড়কুটো ভেসে ওঠা প্রতিমার ভিজে গন্ধ
কত মৃন্ময়!

ভূমিগর্ভের, হৃৎপিণ্ডের গান শুনতে শুনতে 
তাকে খড়ের গন্ধময়, শাশ্বত হতে দিও।

তাকে ঘিরে পাতার ঘণ্টা বাজুক

একটু ছায়া, কুলায়ে ফিরতে চাওয়া তার ফেরারি হৃদয় 
তাকে নিরাময় দিও।

হতে দিও এলোমেলো, অসময়-অসুন্দর।
রত্নগর্ভ সমুদ্রে ফিরতে দিও তাকে 
তার মোহনাকে ।

১৬ এপ্রিল ২০১৫

দুর্বলতার সামনে না দাঁড়ালে

মেয়েদের কথা এলে ব্যাপারগুলি ব্যক্তিগত থালায় ব্যক্তিগত রেসিপিতে (আসলে উত্তরাধিকার ও পরিবেশগত রেসিপিতে) সাজাতে হয়। আমি কোন প্রবন্ধকার হতে চাইনি। হবার যোগ্যতাও নেই। তাই নৈর্ব্যক্তিক সত্যে অধিষ্ঠান করতে পারি না। আমার সত্যগুলি সব ব্যক্তিগত, আত্মিক।

ছাত্রজীবনের পুরোটা আমার নানা সংগ্রামের। ছয় বছর থেকে চব্বিশ বছরে, চারবার দেশ পাল্টাতে হয়েছে। তিন মহাদেশ। চার সংস্কৃতি। চার ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে হয়েছে, বন্ধুত্ব খুঁজতে ও বিশ্বাসী মানুষ চিনতে হয়েছে, পি এচ ডি করতে করতে আবার তিনবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্বজন ছাড়ার বেদনা বারবার মোকাবেলা করতে হয়েছে।

কোন অভিজ্ঞতা ফেলে দেবার নয়। কোন বেদনা ভুলে যাবার নয়। আর পথে একজন দুজন দুর্লভ বন্ধু পেয়ে যাওয়া বড়ো আশ্চর্য আনন্দের।

এত দিন এত পুড়ে এত সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে যে সেসব ভাবতে গেলে অবাক লাগে, তবে অন্যকে বিরক্ত করার ভয়ে বেশি আলোচনা করিনে।

ইংলিশ বই বাংলায় অনুবাদ করছি শৈশব থেকে। প্রথম অনুবাদ ছিল ইন্দিরা নেহেরুকে লেখা তাঁর বাবার চিঠি - ক্লাস ৭ এ অনুবাদ করেছিলাম। তারপর কবিতা পড়ে শখ হল কবিতা লেখার, পারি না পারি লিখেই চললাম শয়ে শয়ে। সমালোচনা উৎসাহ ইত্যাদি কিছুই পাইনি যা দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজে লাগাতে পারি। অনুবাদের বেলাতেও তাই। গানের ক্ষেত্রে বাবাকে কাছে পেয়েও গিয়ে বসা হয়নি। দূর থেকে শিখেছি, পরিবেশ থাকে স্পঞ্জের মত নিয়ে। এই সব কাজ আমার ভালো লাগত। ভালো লাগত শিশুদের নিয়ে নাটক গান করতে করাতে। কিছু সুযোগ এসেছে, অনেকটা আমার আয়ত্তের বাইরে বলে অনেক খানি সংগ্রাম করতে হয়েছে, তবে আইডিয়ার অভাব কোনদিন বোধ করিনি। বোধ করেছি সমন্বয় আর পরিবেশগত উৎসাহের, সাপোর্টের অভাব। হাতে হাত রাখার সমষ্টিগত মানুষের অভাব। আমার ব্যর্থতা বোধ কাজ করে যায় এতে।

গবেষণার পথটাও যখন থেকে শুরু তারপর দেখছি একটা হারডল রেস। হারডল ছড়ান আছে অজস্র। আমাদের নিজেদের বাছাই এর মধ্যে থাকে সেসব হারডল, না চাইতে আসে। সমাজের দিক থেকে সামগ্রিকভাবে পাওয়া যায় না সাপোর্ট।

ছাত্রজীবন শেষ হবার পর সংগ্রাম অনেক তীব্র হয়, টিকে থাকার, বেঁচে থাকার, নিজেকে গভীর ভাবে খনন করে টেনে তোলার, খুঁজে পাবার।

উপরে উল্লিখিত এতগুলি ভালোবাসা ও আত্মিক সম্পর্কের জায়গা টিকিয়ে রাখতে সময় লাগে, অবসর লাগে, শূন্যতা লাগে, অর্থাৎ কিনা স্পেইস। বাই ডিফল্ট একজন সাংসারিক মহিলা সে স্পেইস পাবেন না। আমার আপাতত ডাক্তার দেখানর মত সময় হাতে নেই। আমি উঠে পড়ে লাগি যেন ডাক্তারের কাছে যেতে না হয়। অত লাক্সারি আমার কাছে নেই যে।

দেখেশুনে মনে হয়, আমরা কোনভাবে জীবিকা অর্জন করে সন্তান পালন ও সংসার লালন করতে পারলেই হল। বাকিটা সকলে ভেবে নেয় - এটা ওর প্রিভিলেজ, বা ভাগ্য।

ভাগ্যরেখা মুছে গেছে তৃতীয় বিশ্বের নারী হবার সুবাদে। এক পয়সাও ভাগ্যের ফেরে জোটে না যে।
ফাল্গুনী নাটকে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, সব আলো হারিয়ে গেলে অন্ধ বাউল নিজের আলোয় পথ চলে। অন্যেরা সে আলো দেখতে পায় না, কিন্তু বিশ্বাস করে। শঙ্খ ঘোষ 'অন্ধের স্পর্শের মত' বোধ আর ইন্দ্রিয়র কথা বলেছেন, মোক্ষম, সত্য, সরল, অন্তরলীন। সে পথটা হোঁচট খাবার শুধু নয়, শ্রমশীল ও উদ্গ্রীব ভাবে খুঁজে বের করার। আমাদের প্রাণী-প্রবণতা (animal instinct) তখন বেরিয়ে আসে-- একটি কাঠবেড়ালি যেমন, একটি চিতা বাঘ যেমন তার প্রত্যেকটি রোমকূপ দিয়ে বেঁচে থাকার, বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যায়।

মুখের কথা, মৌখিক পল্লবগ্রাহী পরিচয়ে আমাদের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে কবে, বাস্তবকে চিনতে হয় শুধুই পরীক্ষামূলক ভাবে, সাবধানে, নিজের ওপর আস্থা রেখে। যখন সকলে বারণ করছে, তখন আরও আরও বেশি। নিজের gut instinct বলে একটা কথা আছে। একে ফেলনা মনে করলেই মার।

অহং-কে চিনেছি এই পথে, আমাদের সকলের সব চেয়ে বড় অন্তরায়। ঘরের শত্রু বিভীষণ, সেই মারছে আমাদের, ভিতর থেকে। সেই বিচ্ছেদ আনছে, মৃত্যুর চেয়ে স্থায়ী। তাঁকে এখানে ওখানে উঁকি মারতে দেখলে যখন চিনি, তখন বুঝি, হয়ত, হয়ত এ পথটা এখন সত্য।

এই সব মানুষের, নারীর সত্তার সংগ্রামের সঙ্গে নিরন্তর জড়ান কথা। কথাগুলি আচমকা আমার ব্যক্তিগত থাকে না, কারণ আমি দেখতে পাই কেউ না কেউ কখনো না কখনো এই পথে তাদের বাতি নিয়ে এগিয়ে আসেন। সেটা বেশ আনন্দের। 'বিশ্ব হতে চিত্তে বিহার' এর মতো।

সোউল সিস্টারহুড-এর ওপর আমার আস্থা আছে, কিন্তু বোনদের ভিতরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধ না থাকলে সেটা সম্ভব নয়। শুধু নারী বলে একজন নারীর বোন হওয়া যায় না, নারী হবার সংগ্রামের, বিশেষ করে অন্তরের সব চেয়ে কঠিন সংগ্রামের পথ না হাঁটলে, হাতে হাত রাখা যায় না, এক প্লাটফর্মে আসা যায় না।

নিজের অহং, নিজের তাবৎ দুর্বলতার সামনে না দাঁড়ালে, শক্তি থাকে না।

রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, বড় বড় কথার আড়ালে কী ভাবে মিডিওক্রিটি ঢুকে যায়। কী ভাবে মহৎ মানুষের আত্মত্যাগ ধ্বংস করে পিছ দরজার কমরেডরা। 'চার অধ্যায়' পড়েই জানা যায়।

নারীবাদের পিছনে সব নারী সেই মহত্বের বা নিরহং ভালোবাসার শক্ত ভূমিতে এসেছি তো, অন্তত চেষ্টা করছি তো, নিজেদের অজ্ঞতা আর গোঁড়ামি-কে চিনে নেবার?

আমাদের দেখা এক মহীয়সী নারী বলতেন, "নিজের স্বার্থ বাদ দিয়ে দিতে পারলে, কোন কাজ সফল হবেই।" উনি স্বার্থ বলতে লোভ, আক্রোশ, এইগুলি বুঝিয়েছেন।

লোভ আর আক্রোশ নিয়ে বড় কাজ করা যায় না। আমাদের দুঃখের কথা, বেদনার কথা, সমস্যার কথা বলতে এসে এই বিষয়-টি বারবার মনে পড়ে যায়।

৭ মার্চ ২০১৭

রবিবার, মার্চ ০৫, ২০১৭

মেয়েদের নিয়ে শুচিবাই

মেয়েদের নিয়ে স্বভাবত সমাজের প্রতিটা স্তরে এক ধরণের শুচিবাই থাকে। তাঁরা কোথায় গেল, কতটুকু সময় কাটাল, কার সঙ্গে মিশল, এই সব চিন্তা মোটামুটি বয়ঃসন্ধির সময় থেকে শুরু করে মোটামুটি শেষ বয়েস পর্যন্ত তাঁদের তাড়া করে।

যে সমাজে অন্ধকারে নয়  শুধু, দিনের আলোতেও, ঘরের বাইরে নয় শুধু, ঘরের অন্তরমহলেও মেয়েদের রক্ষা করতে পারে না দৈহিক আত্মিক ও মনন-গত ভাবে, সে সমাজের কাছে এমন রক্ষনশীলতাই আশা করা যায় বোধ করি
এই রক্ষনশীল প্রবণতা যতদিন মেয়েপুরুষ নির্বিশেষে দেখা যায়, ততদিন অতটা খারাপ দেখায় না।


প্রত্যেক যুগে বেয়াড়া মেয়েগুলি বলে বা অন্তত ভাবে, 'মাইণ্ড ইয়োর ওউন বিজনেস।'

কিন্তু কথাটা ওখানে মেটে না। তাঁরা সর্বদা দলে খাটো।

সুরক্ষা এ ভাবে হয় না। সুরক্ষা প্রাণ বা দেহ কেন্দ্র করেও হয় না শুধু।
সুরক্ষার পাঁচিল যে শারীরিক ভাবে একটা বেড়া তৈরি করলেই হয়ে যায়, এমন একটা ভ্রান্ত ধারণা এই সমাজের হয়ত আছে।

শরীরকে একটা জালে আটকালে কিছু দিন পরে মনটাও ধীর শান্ত ও বশবর্তী হবার জন্য তৈরি হয় নিশ্চয়ই। এমন মনস্তাত্বিক একটা হিসেব আছে সমাজের।
নিরাপত্তা-তৎপরতার আড়ালে কি এমন এক ধরণের বিশ্বাস কাজ করে, যে মেয়েদের যে সময় সংসারে কাজ করার, সেবা করার, পড়া করার, বসে থাকার, সে সময় সে চোখের আড়ালে থাকে কেন? কার নির্দেশে? সমাজ তো তাঁকে জবাবদিহিতার নিজস্ব ছাঁচেই রাখতে চায়।

সত্যি বলতে কি, মেয়েদের ব্যাপারে আপাদমস্তক সমাজের এই বিধি এবং মনোভাব দেখে মনে হয় মেয়েগুলির নিজেদের নিরাপত্তাবোধের বুঝি কোন চিন্তা নেই, তাই সমাজকেই উপায়ান্তরে, সেটা করে দিতে হয়।

ওদের ঘটে বুদ্ধি নেই, আছে কিছু ফিমেল হরমোন, যা ওদের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে নিয়ে যাবার জন্য কেবল কাজ করে যাচ্ছে।

তবে সত্যি বলতে কি, আমরা কোন উন্নত দেশে এমন ধারা শুচিবায়ু দেখি না।

সমাজের একমাত্র দায়িত্ববান কাজ হল একটা সুস্বাস্থ্যকর নিরাপদ বাতাবরণ দেওয়া, খবরদারি করা নয়।

বাকি দায়িত্ব প্রত্যেকটা পরিণত মানুষের সমান।

এবার আরেকটা জরুরি কথা - খুব জরুরি

শারীরিক নিরাপত্তা এক মাত্র নয় - নিজের অমূল্য হৃদয়, অতি মূল্যবান চিন্তার জগত, জীবনী শক্তি, সময়, ইচ্ছাশক্তি, অশুভ থেকে বাঁচিয়ে রাখার দায়, নিরন্তর, নিরন্তর ভাবে এক জন মানুষের। মেয়েদেরও - বাই ডিফল্ট। যেহেতু তাঁরাও মানুষ।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, অন্যকে সুরক্ষিত রাখা সকলের দায়িত্ব, আর সে দায়ত্ব পালন খবরদারি করে হয় না। মেয়ে পুরুষ নির্বিশেষে। কিন্তু স্বাধীনতা খর্ব করে নয়।

মেয়েদের ক্ষমতায়নের পথটা কঠিন

আমাদের মা-র অলৌকিক ক্ষমতা আমরা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করেছিলাম। সংসারের পরিচালক, কর্মী, সংগঠক, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, গণযোগাযোগ কর্মী ও নেতা এবং আরও একশটা পারিবারিক ও সামাজিক ভূমিকায় তিনি, কিন্তু যেহেতু ব্যাপারটা তাঁর কাছে এত প্রত্যাশিত আর থ্যাঙ্কলেস, অর্থাৎ ধন্যবাদ দিয়ে ছোট হয়ে যাবার ভয়ে সংসারে কেউ আর এ কথা বলেনি, তাই বহুদিন বুঝতে পারিনি, যে মার (বা মা-দের) ভূমিকা কেমন হয়, আর কীসের জন্য আমাদের জীবন এতটা মসৃণ, লাবণ্যময়, সুস্থ, সুন্দর।

স্বভাবত এই কারণে, ছোটবেলায় বাবাই ছিলেন রোল মডেল।

দুই রোল মডেলের মধ্যে বাবা-কে বাইরে থেকে বাহবা দেবার কেউ না থাক, পিসিরা ছিলেন। তাই জানতে পেরেছিলাম বাবার প্রতিভা, তাঁর সঙ্গে মহত্ব, শক্তি, পান্ডিত্য, বিনয়, সরলতা, সাহস আর মমতার কথা - না বললেও বুঝতে পারতাম হয়ত। প্রজ্ঞার ব্যাপারটা বুঝেছি নিজেরাই, আরও পরে।

তো, সেই বাবা বলতেন ছোটবেলায় একটি কথা, যে কথা আজ তাঁর মনে আছে কিনা জানি না। আমার ভাই তখনও জন্ম নেয়নি। আমার বয়েস ৬-৭-৮। বলতেন, 'তুমিই আমার ছেলে, তুমিই আমার মেয়ে।' কপালে আদর করে দিয়ে।

তাতেই সমস্যাটা হল

আমরা শিভালরি অথবা পুরুষের সাহায্যের জন্য কোনদিন অপেক্ষা করিনি। নিজেই শিভালরি চর্চা করেছি। বাজারের ভারি ব্যাগ টানা, সংসারের দায়িত্ব বোঝার চেষ্টা করা, সামাজিক দায়িত্ব, সহনশীলতা, চুপ করে সহ্য করার চর্চাটাও সেখান থেকে। সাহায্য চাইবার ব্যাপারে এখনও আমার অসুবিধে হয়।

পরে বুঝেছি মেয়েরাই সদাসর্বদা শিভালরাস -- অন্তত আমাদের মা-কে তেমনটাই দেখেছি। কারুর বিপদ যেন সর্বদা তাঁর। ঝাঁপ দেবেনই। আমার মা হেট্রেড মানেন না। কেউ তাঁর বিপদ-আপদ ঘটালেও মানেন না। দুর্দিনে তাঁদের বিপদে তবু তিনি ঝাঁপ দেবেন।

শিভালরি কাকে বলে এই তো অনেকটা বাবা মা-কে দেখে চেনা। মার ক্ষেত্রে, একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পিতার উত্তরাধিকার। আমাদের দাদামশাই নাকি আয়ের চেয়ে ব্যয় করতেন বেশি, আর তা সামাজিক কাজেই। দয়ার শরীরটা সহ্য করতে পারেনি রাজাকাররা।

বাবার ক্ষেত্রেও, স্বাধীনতা বিপ্লবীদের জীবন দানের আদর্শে বেড়ে ওঠা যার শৈশব কৈশোর।

তাই, বোকার অধম আমরা, অনেক পুরুষের ঘাম ফেলার আগেই ঘামটা ফেলতে এগিয়ে এসেছি। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি একটু নরম ও ভালনারেব্ল অভিনয় করতে পারলে কতোই না সুবিধে। তাও শিখতে পারলাম না।

নিজেকে সুস্থ রাখাটা জরুরি ছিল, অন্যের স্বার্থে জীবনীশক্তি দান করতে গিয়েই তাও করতে পারলাম কই।

এ প্রসঙ্গে সাম্যবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ মানুষ আমার পিসি মুক্তি মজুমদারকে মনে না করে উপায় রইল না

মুক্তি মজুমদার মৃত্যুর আগে আমাদের কাউকে পাননি। সারা জীবন দেবার পর নানা কারণে পাননি। আমাদের দায় আমাদের স্বীকার করে যেতে হবে আমৃত্যু!

আমরা হয়ত লাভবান হলাম, অবাধ দাতার কাছ থেকে গ্রহণ করার সুবিধে হল, ধন্যবাদ দিতে হয় না, কৃতজ্ঞ হতে হয় না, গুছিয়ে নেওয়া যায় ঠিক।

মুক্তি মজুমদার যেমন দিলেন

আমাদের সীমায়িত গণ্ডীতেও আমরা এমন অভিজ্ঞতা যেমন শিখে নিলাম

সারা জীবন একজন পুরুষেরই সাহায্য নিয়েছি নম্রনত হয়ে। তিনি আমার বাবা।

নিতে না পারার এই দোষটা ভালো না। এখন মানুষ হিসেবে নিজেকে একটু সম্মান করেই, এবং বয়েসের সাথে প্রজ্ঞা বাড়ছে বলে বোধহয়, অন্যের হার্দিক দান হাতে এসে পড়লে, তা নম্র হয়ে নিতেও শিখছি।

এম্পাওয়ারমেন্টটা ঠিক মত হল কিনা জানি না, তবে এই এম্পাওয়ারমেন্টের পথেই ছিলাম সারা জীবন। বাংলাদেশে এমন ঘটনা অনেক ঘটে, আবার ঘটেও না।

সব্যসাচী পরিশ্রমের জায়গায় কখনো গলিপথ বা পিছনের পথ খুঁজতে যাইনি। অন্যের দিকটা রাখতে গিয়ে ভদ্রতার খাতিরে নিজেই বিপন্ন হয়েছি। এই জেনে যে আমরা তো পারি। আহা বেচারা, ওরা তো পারে না।

এম্পাওয়ারমেন্টের এই পথ কঠিন

ভিক্ষাজীবি হব না, আমাদেরটা আমরা বুঝব, অন্যেরটাও বুঝব, আমরা যে মানব-পরিবার -- এমন সাম্যবাদী স্বর্গ চিনিয়েছিলেন আমাদের মা বাবা, পিসি-পিসে, দাদামশাই, মামা-রা। অবশ্যই তাঁদের সীমার মধ্যে। ছোট অহঙ্কারের সীমা লঙ্ঘনের প্রসিদ্ধিও ছিল তাঁদের।

হাত-পাতা, বা কারুর মাথায় হাত বুলিয়ে কথায় চিঁড়ে ভিজিয়ে কাজ উদ্ধার বা ম্যাস্কুলিন অথবা ফেমিনিন চার্ম দিয়ে পুরুষদের (বা নারীদের) জয় করার বিষয়গুলি ছোটবেলা থেকে বুঝতে পারিনি। একটু বিরক্ত যে লাগেনি, তা বলতে পারিনে।

যে-সময় সাজগোজ করে বেড়াতে যাবার ছিল (আমাদের সময় সেলফি ছিল না, কিন্তু বসন্তের বাতাস নিশ্চয়ই ছিল), সে সময় পাত্তা দিইনি চেহারাকে, নিজের রঙিন সত্তাকে। চিন্তা ছিল বই নিয়ে, পড়াশুনো নিয়ে, মাথায় গিজগিজ করত লেখা, সেসব আলোর মুখ দেখুক না দেখুক। এ নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। ফ্যাক্টস আর ফ্যাক্টস। ভালো মন্দ সব আপেক্ষিক।

মাথায় এক সময় বিজবিজ করত রবীন্দ্রনাথ -- 'সব নিতে চাই' এবং 'সব দিতে চাই' এর বীজ, রবীন্দ্রগান।
এসব মনে হতে পারে ভ্রান্ত স্বর্গ -- কিন্তু সে স্বর্গে অনেকে আঙুল দেখিয়ে টিটকারি দিলেও আমি তা মেনে নিইনি।
এই সমাজ-এর নানা কষ্টকর গ্লানিকর দৃষ্টিকোন থেকে দূরে থাকা ভ্রান্ত স্বর্গ যে অনেক দিন লালন করতে পেরেছি জীবনে, এও এক এম্পাওয়ারমেন্ট।

পরিবারের শিক্ষাদীক্ষা ছাড়া আর পরিবার, বন্ধুদের অর্জিত অনন্ত কিছু ভালোবাসা ছাড়া আর কোন পুঁজি নিয়ে ধরাধামে আসিনি। সেই পুঁজি নিয়ে যদি মরে যেতে পারি, তবেই জীবন সার্থক।

রবিবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৬

হাউজ অভ বিলঙ্গিং

বইটা ভাই এনে দিল!

হাউজ অভ বিলঙ্গিং!

উড়তে চায় যে পাখি, সেও বাসা বাঁধে।

সেও লালন করে, লালিত হতে চায়!

উষ্ণতা বিলাতে চায়, চায় উষ্ণতা পেতে!

তার পরও - কারুর কারুর মানবজন্ম এমন যে তারা স্থির থাকতে চায় না, অথবা, স্থির থাকতে চেয়েও কিছুতে পারে না, যে বাড়ি তাদের আস্তানা তা আস্তানা হয়ে ওঠে না। আস্তানা খুঁজে বেড়ায় তাঁরা সারা জীবনভর

এছাড়া ভেবে দেখতে গেলে, তৃতীয় বিশ্বের কতো মানুষ তো এখন আকাশের নিচে। উদ্বাস্তু।।ভুমিকন্যা ভূমিপুত্রের মতো। বিড়ম্বিত সংখ্যালঘুর মতো। ভূমিহীন কৃষকের মতো

দেশ জাতি সমাজ জায়গা দেয়নি তাদের, কাছের মানুষ উচ্ছেদ করেছে।

এক বিঘা জমির মালিকের মতো ধরণীর এক কোনায় বাঁচতে চাওয়া একটি সাধারণ মানুষের জমি লুট হয়ে যাওয়ার পর তার বিড়ম্বিত জীবনের মতো

সেই সব মানুষের জন্য, যাদের ভিতরে ভিতরে অবিরত প্রশ্ন জাগায় বোধ, আর বোধে জেগে ওঠে শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো অমোঘ অশ্রুফোঁটা বা রক্তস্রোতের মত কবিতা, তাদের জন্য এই বই

সকল দিকেই আমায় টানে

১/সকল দিকেই আমায় টানে

২/সামান্য যা করেছি, ঘাম আর শ্রম দিয়েই করতে হয়েছে - পড়ে পাওয়া এক আনাও নয়

৩/ছাড় দিতে চাইনি প্যাশনে, কিন্তু জীবন আগলাতে তা-ই দিতে হয়

৪/মানুষ তাঁর প্যাশনের সঙ্গে যতটুকু সৎ ততটুকু তাঁর লাভ, যে এটা জেনে গেছে, তাঁর জন্য (৩) নম্বর মেনে চলা অনেক দুঃখের

৫/বাংলাদেশের / ভারতীয় উপমহাদেশের এক জন সামান্য নারী হওয়ার সুবাদে, টন টন ভার টেনে নিয়ে চলার পরও সেই মাল চুরি করে নেয় অন্য লোকে, আর সমাজ দেয় গালি, উপদেশ আর শাস্তি

দেশে প্রজনন হার

দেশে প্রজনন হার (ফারটিলিটি রেইট) ২ এর কাছাকাছি - কিন্তু সিলেট ও চট্টগ্রামে এই হার ৩ এর কাছাকাছি

মানব শিশুগুলি আসলে দেবশিশুর চেয়েও সুন্দর - কিন্তু অশিক্ষিত সমাজের চাপ তাদের এক একটি অ-বিকশিত কুশিক্ষা ও অযত্নের চাপে নুয়ে পড়া প্রাণী সৃষ্টি করে - আর শিশুদের তেমন তেমন মানুষ হবার শিক্ষা দেবার শক্তি অধিকাংশ বাবা মার নেই

সারা দিন যখন ৪ ঘণ্টা জ্যামে বসে দিনের, জীবনের সব চেয়ে দুর্মূল্য কর্মক্ষম সময়ের ৩৩% জনসংখ্যার বিস্ফরণের চাপের কাছে বিকিয়ে বাড়ি ফিরে আর কোন ভালো কাজ করার মত শক্তি পান না, এ কথাটি মনে রাখবেন দয়া করে

ম্যান পাওয়ার উওম্যান পাওয়ার - সব ফালতু

যত জনসংখ্যা কমবে, তত ডিম্যাণ্ড এবং কদর বাড়বে মানব শক্তির

তত কদর বাড়বে শিশুদের

তত বাড়বে পাব্লিক সার্ভিসের মান

আমাদের মৃত্যু, অথবা আত্মঘাতের মূল্য এখন খুব কম

আগুনে পুড়ে প্রতিবাদকেও মূল্য পেতে হলে জনসংখ্যা এর চেয়ে অর্ধেক হতে হবে

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৬

আমরা তো বাঙালি

দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যবশত শিশুকাল থেকে বেদুইনের মতো দেশে দেশে ঘুরছি। দেশ বিদেশ নিয়ে আগ্রহ থাকে, কারণ আমাদের সীমিত চোখের বাঁধন খুলে পড়ে নির্মোহ তলোয়ারের টানে। সংকীর্ণতা কাটে। দেশ দেশ করে চেঁচিয়ে আমরা দেশোদ্ধার করতে পারিনি, পারবও না। নিজেদের আমূল পাল্টাতে হবে। 

গণযোগাযোগ ব্যবস্থা যে দেশে নেই বা অকেজো, সে দেশে সাধারণ মানুষ, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দিকে কোনো খেয়াল রাখা হয়নি।  যে গণযোগাযোগ ব্যবস্থায় যে দেশে নিরাপত্তা নেই, সে দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি লোক, অর্থাৎ নারী ও শিশু যে চলাচল করতে পারবে না, অচল হয়ে থাকবে তারা, অথবা গুরুতর ভাবে পরনির্ভরশীল, সেটা বেদবাক্য বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। এতে কারুর কোনো সমস্যা নেই।

গাড়িঅলা মানুষদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি বাংলাদেশে প্রাইভেট গাড়ি একটা অভিশাপ। নিরাপত্তা থাকলে আর দুই চাকার স্কুটার থাকলে আর কারুর কিছু দরকার হত না। 

চীনে বা পুবের 'উন্নত' দেশে সকলেই (সত্যি!) দু চাকার বহন চালায়। স্ট্যাটাস কমে না এগুলো ব্যবহার করলে। গ্যাস এমিশন হয় না, পরিবেশ বাঁচে। ট্র্যাফিক জ্যাম হয় না। একে অন্যের ঘাড়ে উঠে যেতে হয় না। দুর্ঘটনা কম ঘটে।

সেখানে পথচারী আর সাইকেলচালকদের আলাদা পথ (লেইন) থাকে। কলা আর কদবেল কে এক বলে মনে  করলে আমরা ঢালাও একই রাস্তায় চলতে থাকব আর ট্রাক-বাস-গাড়ি  আর অটো-ভ্যান-পথচারীর মধ্যে সংঘাত কমবে না। এভাবে কম মানুষকে আমরা হারাইনি।

গাড়ি, পথচারী, কুকুর, ট্রাক আর মানুষ -- সকলেই একই রাস্তাই চলাচল করে - এমনটা এশিয়াতে আমাদের দু' তিনটে দেশেই ঘটে! তাই সবাই সবার ওপর খাপ্পা। রিক্সা-আরোহী বোঝে না কেন ট্রাকের মত বেঢপ বস্তুকে তার গায়ের ওপর দিয়ে চলতে দিতে হবে। গাড়িচালকরা প্রায় অভিযোগ তোলেন যে রিক্সাঅলা নিজেকে রাজাবাদশা মনে করে। আসলে গাড়িঅলা (যাঁর প্রায়শ চালক আছে) আর রিক্সাঅলার মধ্যে কে রাজা আর কে প্রজা সেটা তো এরকম একটা সামন্তবাদী প্রথায় বুঝতে দিতে হবে - আসল সমস্যার দিকে অথবা রাজা বা প্রজার কারুর কোনো খেয়াল নেই। ওই গাড়িআরোহী "শিক্ষিত" অশিক্ষিত লোক এমন কথা বললে আমাদের  শুধু মনে করিয়ে দিতে হয়, যে সিস্টেমের গোলমাল বিস্তর। সবার এক রাস্তায় এক লেইনে চলার কথা নয়। কোনো 'উন্নত' দেশ তা করতে দেয় না। 

এছাড়া উন্নত দেশে ছোট পরিসর শহরে গ্রামে সাইকেল চালানোর রেওয়াজ আছে  - ফুটপথে বা আলাদা লেইনে। এতে স্বনির্ভরতা আর কায়িক শ্রম হয়, টাকা দিয়ে জিমে বা হাসপাতালে সময় নষ্ট করার দরকার করে না। 

আর হ্যা, উন্নত দেশে অনেক হিচহাইকার আছেন, যারা পয়্দল চলেন আর রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে লিফট নেন -- এতে তাদের আত্মসম্মান খর্ব হয়না - পরিবেশবাদীরা তেলগ্যাস বাঁচানোর জন্য তাদের পিঠে স্নেহের চাপড়ই দেবেন। আর তাদের আত্মমর্যাদা আর আনন্দর কথা তো আর লিখে বোঝানো যাবে না। 

কারণ, 'হাঁটবে কেন, রিক্সা নাও' অথবা 'সিঁড়ি ভাঙবে কেন, লিফট নাও' - যখন আমাদের এইটাই মটো  এবং প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে। পরের প্রজন্মে পায়ের যে কোনো দরকার ছিল, সেটা আর বুঝতে দিতে হবে না। গতরে মেদ বাড়ছে আর অসুখ হচ্ছে, কিন্তু তার জন্য হাঁটার দরকার কি? আমরা তো বাঙালি। 

শনিবার, এপ্রিল ০৫, ২০১৪

ছোট ছোট দুঃখ কথা

April 2 2014

Sleeplessness

A young girl, in her teens tries to pin her exhilaration of life in her poetry. She is awake and aware and fully alive. She has known love early, and believes hope is going to be her guardian angel.

A middle aged mother alone at home tries to put her baby to sleep, who is nervous and crying. The mother has tears too, of nervousness, but she forges the best assurance she can manage.

An old lady is now paralyzed. Everyday is an ordeal, as the people who once obeyed her now manipulate her situation. She waits patiently for death even as she can not go on. Even night can not bring respite to her aches.

April 2 2014

Being a loner is not a great oppression for me. Since childhood, my stars have led me to far off places that were initially just remote islands of uncertainty, and since then I have always had to shift grounds and strike roots in places I never imagined.

I have swiftly had to adapt and adjust with unfamiliar cultures and languages and people and systems, and just at times when things get a little comfortable the zone changes! I don't deny that I have then sometimes nested in margins of dreams, weaving in thrill, imagination to my daily substance!

In any case, I believe, like many or all, I have by and large tasted the bitter fruit of uncertainty, lack of health, apathy, aggression and loneliness, and that I have a moral take on it, for all it's two cents worth. So any pursuit of happiness exhilarates me no end.


Hoping to read Flow: The Pysychology of Optimal Experience. The gist says it is a scientific and statistical take on behavioral patterns of happy people. So it already sounds greatly fascinating.


March 5 2014

If there is something that has always made most of us rebellious, it is imposition. Any Mr /Ms Know-it-all can tell us how they know exactly what we should be doing.

On our own life, and the life that comes through us, we are always the best pro that ever existed. Don't we agree?

The only time we feel free is when we brim with hope in ourselves. That hope translates to hope in life itself. It elevates us to the next level of unimaginable possibilities. It always does bring out our best. Of course, it can throw us in the fire. But that is not the ultimate. The ultimate is that we rise from fire too.

How many times have we heard, 'I don't think you have the knowledge/ability to do this or do that.' A million times at least? And what does that do to our morale? It fights back, because it knows that is a blatant cruel lie.

People impose restrictions and fear in us, making dwarfs of us, because they do not care that we die in mediocrity. But we do.


March 4 2014

শুনেছি রুডিয়ার্ড কিপলিং বর্ণবাদী ছিলেন - অথচ কী আশ্চর্য অবর্ণবাদী কিছু লেখা লিখে গেছেন, মানুষের সব কিছু সাদা কালো তো নয়...ভালো করে তাঁর লেখা কখনো পড়া হয়নি - শুধু কিছু পংক্তি ছোটবেলা থেকে বাবা আওড়াতেন, আমাদের অন্তরে যাতে প্রবেশ করে -

Teach us Delight in simple things,
And Mirth that has no bitter springs;
Forgiveness free of evil done,
And Love to all men 'neath the sun!

আরেকটি মূল্যবান কবিতা বলতেন টমাস মার্টিন টাউনের -

Little acts of kindness,
Nothing do they cost;
Yet when they are wanting
Life's best charm is lost!

আমি একজন সামান্য মানুষ, একটি ঘাসের ওপর একটি শিশির বিন্দুর মত ক্ষনস্থায়ী, ক্ষুদ্র, আবার প্রকৃতির জেনেটিক হিসেবে অভাবনীয় রহস্যময় প্রাণী -- বিস্ময়ে জাগে আমার প্রাণ ....জীবনে কত ভাবে কত মানুষের কাছে ভালবাসা পেয়েছি, আর ঠিক সে ভাবেই কত নিষ্ঠুরতা, কত উচ্চকিত অপমান, শ্লেষ, আঘাত, নিরন্তর গঞ্জনা আর বিদ্রূপও পেয়েছি -- নীরবে সহ্য করেছি শুধু, কারণ প্রত্যাঘাত আমার জিনিস নয় । শেষ পর্যন্ত সরে গেছি বেশির ভাগ সময় । অথচ আমি-ই আমার ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে অন্যায় দেখলে মুখর হয়ে উঠতে পারি, কিন্তু নিজের ব্যাপারে শুধু দেখে যাই

পরে দেখেছি যারা অন্যদের এত সহজে আঘাত করতে পারে, এত সহজ অশ্রদ্ধা করতে পারে, তারা সারা জীবন অশান্তির মধ্যেই কাটায় - কারণ মানুষের বোধ আর হৃদয়ের যে অফুরন্ত শক্তি আর গভীরতা সেটা তারা জানে না, খুঁজে পায় না ...


March 3 2014

একজন ভিখিরিকেও আমরা আমাদের সহৃদয়তা দেখাই, কিন্তু কাছের মানুষদের প্রয়োজনের পাপোষের মত মুছে ঝেড়ে ফেলতে একটুও দ্বিধা করিনা ! বাইরের পৃথিবী কে দেখানোর জন্য আমাদের যত সাজগোজ - কিন্তু কাছের লোকের কাছে আমাদের মুক্তকন্ঠে অনাদরের, প্রতিশোধের, অশ্রদ্ধা মাখা চেহারা দেখাই, আর সেটা কত হতাশাজনক, তা খেয়ালই করিনা । মানুষ বড় অদ্ভুত জীব! ভালো মানুষ সাজা যায়, ভালো মানুষ হওয়া খুব কঠিন!


January 2 2014

2013 has been ground-breaking in dashing hopes to smithereens, and also miraculous healing, renewing promises, on charred grounds (some of this is true for my self, as well as my homeland).

Starting from 2012, a chain of events and experiences brought me into the more spiritual realm of understanding basic instincts, impulses, thoughts, actions and reactions of the human being -- objects like desire, fear, hate or love became things I could scrutinize, with objective compassion (even when they were inside me, or so I hope!

Here is hoping everyone I know, leans into their own inner radiance, to witness life with more courage and wisdom.


Goodreads

March 15 20014

A late night storybook, after a long time. After a child is born, a mother has to secure all her resources, and stick to discipline. A late night compulsive reading is not a luxury she can afford. However life presents the need to a gate-away through insomnia. And thus the best book available for this state, was Runaway by Alice Munroe.

Something in the rolling of time, the misfortunes and tragedies and occasional laughter, some sadness rings, something that you can not pin down. There is no message to life. It just moves on.


January 3 2014

Some may have their reservations about Man Booker winners, but in my case, being a mystery lover myself, I was tempted by Eleanor Catton's recent Booker winner, 'the Luminaries', which I learned was Gothic and a voluptuous thriller...I had to finish the massive book even as rows of responsibilities stretched out before me.

It was rather a splendid read, based on the gold-rush in New Zealand in the nineteenth century.

The first half was intriguing to say the least, as satisfying to a reader as a hot brew is to to a connoisseur of coffee or tea, who savors its long-lasting and magnificent flavor.

The characters were molded with a sculptor's originality and scope, very astutely. The feminine and masculine characters balanced, throughout. And for some reason, each character patterned out in an astrological fashion - as either a stellar or planetary body. Thus we see such titles of these short chapters: 'MERCURY IN SAGITTARIUS' or 'VENUS IN CAPRICORN' ...

The philosophical observations as the writer spins each character into flesh, at the beginning, are stunning. Her description of the gold diggers' milieu paints a vivid picture of the time and location. The details are ever so flawlessly woven in, with great deliberation.

The story begins with several mishaps in the city of Hokitika. We see an assembly of twelve characters who form the basis of the novel... the apparently haphazard and incoherent mysteries present themselves, one by one, but then the plot goes on getting thicker with every flip of the page...or rather every flick of the kindle button. One would grope to to see the light beyond the several mysteries, but the light is cleverly reserved for later, and only filtered, shaft by shaft, in the second half of the novel.

At the very end, when the jigsaw puzzle seems all but complete, the loose ends are tied in a haste -- a disappointment. Even a passionate reader such as myself could feel that many inexplicable occurrences were left that way, rendering the end, a little wanting of a creator's finishing touch...what was the solution to the phantom mystery that presented itself in the onset? How did a character very much in love choose a drug over his emotion?... a few rambling questions remain unanswered and so the end is rather quixotic by nature..

But, nevertheless, this is a mega-mystery at it's near best.


Cinematic ecstasies

29 March 2014

David Suchet played the Agatha Christie fictional character, Hercules Poirot, arguably, the most well-loved detective in fiction. I have read all the books in the series a few times over, and have had the pleasure of watching all movies with Poirot impersonations. One can not imagine him anything but the Belgian detective, with a compulsive devotion to 'order and method'.

I respect Suchet for his penetration into this fictional character, for giving him delightful subtle humor, the right nuances of eccentricity and the humane flesh and emotion, all so faithful to his character.

Last year marked his 24 years of completion of the Poirot series. As he says goodbye, the world contemplates how much they will miss Poirot on the screen.


28 March 2014


Watching `The Artist' now. High time I did. It is already about three years old, and I have been hearing of it since its critical acclaim in the Academy awards and elsewhere. Is it true that French films really have a great deal of authenticity and strive to whisper the softest nuances of the human person, magnificently exploiting, but never dominated by, great technology?

Truly bowled over. What art!


24 March 2014

I finally watched the much acclaimed movie Amelie (in French with Chinese subtitles)! This is a genre of it's own. The mind is steeped in sunshine, pure and frolicking. I think I will grow addicted to it for some time.


23 March 2014

Thanks to Arunabha Sengupta for introducing me to the first of a sequence of movies.

The last one (nominated for best screen play, Academy awards, 2013) and in the series got really brilliant, insightful, honest, and deep, looking at a universal man-woman, modern human relationship, within a low key low-budget framework.

The movie is titled 'Before Midnight' and nearly the whole of it is based on dialogue between the two protagonists, a woman and man, just like the previous two were.

Being only dialogue, and much of it, dualistic, it does not take sides one way or the other. But elucidates issues quite well. At a more mature level, naturally, than its two predecessors.

Before Sunrise (Silver Bear for Best Director, 1995) was the first in this series, and had that rosy romantic idealistic glow to it -- based on young love. It came as a poignant surprise, because there was so much more than a couple's love affair.

Before Sunset (nominated for best Screen play, 2005 Academy awards) came nine years later, and took on a more realistic turn. It tried catching up with the same couple almost a decade later, after they had parted without leaving each other any address. The story had evolved, with their lives.

And in the latest movie, the couple have moved into their middle age, and are together finally. So the question is, the romance that started eighteen years ago, how does it travel through space and time? Very difficult and real questions arise. The actors as usual mesmerize the audience with their prolific depth and scope.

I worship the director, writers (and actors) Richard Linklater, Ethan Hawke and Julie Delpy respectively, for bringing up this difficult, humane, and intricate journey in a hilariously relate-able, entertaining capsule.


March 16 2014

Happiness is....to sit down with a great movie or a good book.

Pretty much richly, blissfully absorbed with Blue Jasmine (and Yoga practice, silly multitasker that I am) written and directed by Woody Allen.


February 13 2014

Srijit Mukherjee's 'Mishor Rohoshyo' was one movie I had been looking forward to for some time. Like numerous Bengali kids, I had grown up on Anondomela, Sandesh, and Shuktara, children's magazines that have a long and rich tradition, waned and buffed as they might have all turned out to be, in the present day.

The Shontu Kakababu series was a part and parcel of our secular, literary pujo-making -- i.e., the invariable spark to any Sharodiya Anondomela for years and years, until its author Sunil Ganguly died, only recently.

Srijit Mukherjee set out to screen this movie -- thrilling as it sounds, it happens to be one of the few Bengali movies to be shot in the authentic location of the story -- namely, Egypt!

So what happened to this big budget movie with all the promise? Lets look at the cast: Prasenjit Chatterjee (who never lets us down these days), Indraneil Mukherjee (it turns out for once he is not the villain), Swastika Mukherjee (her second time to fit into a comic role, which she seems good at), and Rajit Kapoor (our very favorite Byomkesh Bakshi hero), also theater-personality-turned-director Kamaleshwar Mukherjee (nice bit of delivery, presence!)

But the spark that looked very promising never really lit the fire -- and why?

Here is some of my ahem, analysis,

1) Shontu was lackluster, as cute as he might be. An important role needs good acting, there is no other option.

Also, did Shontu actually have a girlfriend in the story?

2) Too many jarring camera movements actually shifted and digressed our attention, and we fail to see the logic as to why the camera was so whimsically used. See how the camera moves for instance when Swastika and others discuss their plans to go in search of Kakababu.

3)a) The script was not great, even as it is intended to be a comedy (to compare, see Hemlock society for instance, where each dialogue was just as it should have been, and delivered right on)...

3) b) for such an ambitious project, more cryptic dialogue was needed, and better editing, to minimize unnecessary scenes and repetitiveness (eg. why was the scene in the tomb of the mummy so long?)

4) Unnecessary dramatic lights were used, for instance when Kakababu and Baba Pir have their first meeting, there is an light flickering on Baba's face for absolutely no reason

5) Indraneil was great as usual, but his skin tone and Indian looks give him away. No, he does not look or sound so much as a Egyptian poet cum revolutionary, even though we are informed he knows 17 languages, and is a master of camouflage. His head gestures are still, typically Bengali.

6) Sound tracks were jarring too. Monotonous sound tracks failed to pique our attention and interest in the movie.

What was great? Prasenjit made the best he could of his role. Egypt with its dunes and pyramids was the shade of gold we might envision it to be. The message about how a democracy has to be fought for, and how revolution becomes an act of self defense, was enlightening.


February 10 2014

'Chaander pahar' is the first Bangla movie which has set sky high ambitions in the adventure / action genre.

Frankly, I could see it over a few times -- given my passion for adventure, and given the vulnerability many of us have for the fascinating novel by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, which forms the basis of the story.

Like many, I have been a little disappointed to see some silly glitches in the making, namely the following:
(i) the mythical animal Bunyip appears here in flesh, and biologists tell us that a few scientific details are wrong (it was left to be a shadow - a silhouette, in the book) . The computerized animal actually irritated the audience, rather than terrorized them.
(ii) Dev, magnificent action hero as he is, was typecast for the majority of the Bollywood audience. For instance some of his super-hero stunts could easily have been omitted, and the Bollywood-type glamour matted to perfection. A little real life vulnerability and imperfection would have been fine.
(iii) Volcanoes do not make umbrella clouds.
(iv) The snake in the book did not actually climb up Shankar's body, and definitely did not bite him.
(v) The audience does not need a thunderous sound track to remember they are dwelling in Africa. They could have done with quieter sequences which gradually climaxed to a peak of suspense. The director needs to remember that a monotonous pitch in the sound track actually takes away the edge of the movie.
(vi) A good movie does not need much of a narration.

But for all the glitches, this movie is still a roaring blast for many like me.

Africa is at its most picturesque. Shimmering with its gold and glory, its flora and fauna, its animals and birds. We view some near-National Geographic footage throughout the movie. The wild life was all real. In this Kamaleshwar resorted to authenticity, much like Satyajit. Except, ahem, for the Bunyip of course. Which he could have most likely avoided.

Finally, my heart frankly swells at Shankar, so acutely Bengali in his English intonations, innocent in his smile, natural in his rustic presence; the village boy, the dreamer, fighting tooth and nail in the face of an unparalleled adventure. Created by one of our greatest writers for immortality.

Motherhood diaries

4 April 2014

Every now and then the three and a half year old wakes up in the middle of the night with some strange nightmare, and demands something be done at once. Deciphering what he means as I dole out dollops of love and solace becomes something of a challenge, as disoriented as one is, in the middle of the night!

Last night was no different. Finally I could make out his point of desire: 'A green rectangle juice'! I finally had to say I was going to the market to buy one, and push off and disappear around the door, as if I was, till he subsided and stopped crying.

Oh boy!


28 February 2014

Parenting is about changing orientation and even the axis, to put it in a mathematical lingo. Orientation, because you see the world in a new light. Axis, because your world has a new center of focus.

Parenting is about discovering the world anew, and surprisingly some dark, unknown secrets are revealed. You learn to understand who will stand by you, and who will not. It is the acid test of a conjugal life.

Parenting is also about digging into your deepest resources and strength, discovering a fierceness of a tigress within you that you did not know was there, trying to protect the child, growing new nerves to fight the odds.

It is giving up to fate, and not giving up to fate, sometimes.

It is about solidarity with other parents, mothers.

It is about re-evaluating your own parents, and others.

It is about the feeling of accomplishment, in the minutest of things.

It is also about intense and complex exhaustion, that the society (that is us) somehow does not endorse, or understand, or stand shoulder to shoulder with....


December 22 2013

Yesterday the three year old whispers after a long day (of having fun as well as illness), 'Ma tumi ar school e jabe na'.

He somehow has figured it out how things work with these conferences

লেবেলসমূহ:

বুধবার, মে ১৬, ২০১২

খুচরো চিন্তা

(১)

জীবনের নতুন উপপাদ্য, নিজেকে শেখানোর পর, বাইরে থেকেও যা বর্ষিত বারবার-- নিজের অনুভূতির ওপর গভীর আস্থা রাখার... অনুভূতি, বোধ, বোধি, মানুষের একান্ততার মুহুর্তের কন্ঠস্বর, এই কন্ঠস্বর কে মানতে হয়, জানাতে হয়, ভুলতে নেই, ভুলতে দিতে নেই..| ভুলে যাওয়া, ভুলতে দেওয়া --তাও এক ধরনের হত্যা, নিজেকে, নিজের অন্তরকে হত্যা...| তাড়িত জীবনের মাঝখানে, তান্ডবের ফেলে যাওয়া ভাঙ্গা টুকরোগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে অনুভূতির মত মেয়েলি জিনিসকে নাকি জীবন পরিত্যাগ করে যায়... পরিত্যাগ করে যেতে বলে... কারণ জীবন তো খুবই কঠিন, আর কাঠিন্যের সঙ্গে কঠিন হতে হয়, সেখানে চিন্তার জোর যত, অনুভূতির জোর ততটা নয়...এই সব সদুপদেশ বহুবার বহুবিধ প্রলয়ঙ্কর ভাষায় ও রীতিতে আমি পেয়েছি, কিন্তু নিতে বোধহয় অবশেষে পারিনি...

       (২)
 ইংরিজিতে শব্দটা মিউজ... বাংলায় সুরাহা করতে পারছি না, তাই একে বলতে যাচ্ছিলাম, 'সত্ত্বা' - জানি ঠিক হলো না, তবুও | মিউজ শুধু সত্ত্বা নয়, তার বেশি কিছু, সত্ত্বার সচ্ছ্বতা, আনন্দ সে, প্রজাপতির মত উড়তে উড়তে আসে,...অনুভূতির গহন, ফুরফুরে, সুরেলা ভাবটা নিয়ে ... সে যাহোক.. মিউজ নিয়েই কথাবার্তা এখানে... নিজের অন্তরের সঙ্গে বাতচিত, বা মিউজের সঙ্গে বাতচিত করতে হলে, তাকে তো পেতে হবে | রাত্তিরে ছোট শিশুর হাত ধরে ঘুমোতে নিয়ে যাই, এছাড়া এইরকম প্রাণের উষ্ণতা আর নির্জনতা, একই সঙ্গে, আর কোথায় পাওয়া যাবে এই জটিল, ব্যস্ত জগতটাতে? কারণ মিউজ বড়ই স্পর্শকাতর, ওই হালকা দুলকি চালের মন ভোলানো কথার চটকদারীতে তাকে মোটেও ধরা যায় না, আবার আকাশচুম্বী বড় বড় শব্দের গম্বুজ তুলেও তাকে পাওয়া যায় না... তার জন্য নিভৃতে দেখা করার ব্যবস্থা করতে হয় | সেই সময় এসে দিয়ে যাওয়া তার গুপ্তধনগুলো নিমেষেই হারিয়ে যায়, কর্পুরের মত... সে মুহুর্তে মনে টুকে নিলেও বাকি থাকে সামান্য... কিন্তু তাকে ধরতে হবে, তাকে ধরতে হবে, চাই যে সেই সোনার হরিণকেই |

আর এখন সেই মিউজকে জিজ্ঞাসা করছি বারবার, জীবনে যেখানে সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যেখানে স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে, সেখানে মানুষের বেঁচে থাকার রসদটা কি? মন ভোলানো ঘুমের বড়ি, জলপটি, ধোলাই, সাফাই, কম্প্রমাইজ... নাহ কিছুতে তো মন শান্ত হয় না, প্রশ্নের মৌমাছি ভনভন বন্ধ করে না... বেঁচে আছ, শুয়ে আছ, জেগে আছ, আছ, এই তো প্রাণ, শিশুর সম্পূর্ণ ভালবাসা, তার নিবিড়, মুক্ত সমর্পণ, থেকে জীবনের প্রতি একটা সমীহ, একটা অদ্ভুত বোধ তৈরী হয়... কী সেটা বলা কঠিন... কিন্তু হয়, আর তখন হঠাত এক লহমার জন্য মিউজ আসেন..এক স্বপ্নের মত আলোকবর্তিকা...জীবন এক মুহুর্তের জন্য হলেও সার্থক হয়, সম্পূর্ণ হয়... কোনো ভেক ভেল্কিবাজি দিয়ে নয়, এক পরম সত্যের সঙ্গে নিবিড় আলিঙ্গনের মাধ্যমে... যে সত্যকে প্রায় চেনা যায় না, এমন অন্ধকারে থাকতে হয়.... নিবিড় কালো না হলে, যে ধরা দিতে চায় না...

 

বৃহস্পতিবার, মে ০৩, ২০১২

রবীন্দ্রনাথের গানের অনুবাদ প্রসঙ্গে



রবীন্দ্রসংগীতের অনুবাদ নিয়ে একটি ইংলিশ লেখার তর্জমা এটি, আমার শ্রদ্ধাভাজন কাকু সুশীল সাহার কথায় করছি | আগেই বলে নিই, গানের অনুবাদ আমার বিষয় নয়, আমি রাশিবিজ্ঞানের ছাত্রী | তবু প্রায় দশ বছর ধরে রবীন্দ্রসংগীতের অনুবাদের সঙ্গে কীভাবে যেন জড়িয়ে পড়েছি | সুশীল কাকার অনুরোধে আমি একটু ভয় ও কুন্ঠার সঙ্গেই এই লেখাটি সকলের সামনে তুলে ধরছি | লেখাটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বাইরে কিছুই নয় | 

রবীন্দ্রনাথের গানের অনুবাদ দুরূহ কাজ, এতে নিরন্তর লেগে থেকেও লক্ষ্যস্থলে তীর ছুঁড়তে না পারার বেদনা, হতাশা থেকেই যায় | প্রথমত, বাঙালী শিক্ষিত জন জানেন রবীন্দ্রনাথের সুর ও বাণীর মিশেলের মধ্যে যে অমর্ত্য, অজর অনুভূতি আছে, স্বাভাবিকতা আছে, তাকে নিছক বাণীর অনুবাদের মধ্যে ধরা যায় না, অনেক ক্ষেত্রেই ছন্দের, অন্ত্যঃমিলের, অনুপ্রাসের ব্যঞ্জনা, যা কাব্যকে চমক ও সৌন্দর্য্য দেয়, তা অনুবাদে অনুপস্থিত| সুতরাং বাঙালী রবীন্দ্র-ভক্তের কাছে, প্রায়শ, রবীন্দ্রসংগীত অনুবাদ এক ধরনের দুর্বল, ব্যর্থ, ছেলেমানুষী চেষ্টা বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক |  

এতদিন পর্যন্ত রবীন্দ্রসংগীতের যে অনুবাদ হয়েছে, তা দুইটি ভিন্ন উদ্দেশ্য মেটাতে গিয়েই হয়েছে | প্রথমত, রবীন্দ্রনাথের, বা ইয়েটস-এর হাত দিয়ে শুরু হওয়া, রবীন্দ্রসংগীতের অনুবাদ; ইংলিশ গদ্য-কাব্যের আদলে | রবীন্দ্রনাথ অনূদিত গানের ফলশ্রুতি রবীন্দ্রনাথের নোবেল-বিজয়ী গ্রন্থ, গীতাঞ্জলি | সুর, দোলা, ভাব, কাব্যসম্ভার সবটুকু মনে রেখেই এই অনুবাদ, এতে বাংলায় অনভ্যস্ত ইংরিজি পাঠক পান কবিতার প্রাণকে, অন্তত সেটাই লক্ষ্য | গানের গতি, গানের ছবিকে বিম্বিত করবে অনুবাদ, স্বচ্ছ, শান্ত হ্রদের মত | ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মত মননশীল লেখিকা এই ধরনের অনুবাদ পড়েই রবীন্দ্র-অনুরাগী হয়েছিলেন | পরবর্তীতে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন অনেক লেখক; সকলের কথা না জানলেও, জানা আছে লুডুইগ উইটগেনস্টাইন, ক্ষীতিশ রায়, উইলিয়াম রাদিচে, অমিয় চক্রবর্তী, কেতকী কুশারী ডাইসন-এর কথা | অন্য দিকে, রবীন্দ্রসংগীত-কে গাওয়ার জন্য গানে রূপান্তরিত করা, সেটি আরেক উদ্দেশ্য | এই উদ্দেশ্য সফলভাবে হাসিল করা, আমার মতে আরো অনেক কঠিন | শুধু ভাব নয়, গানের ছন্দ, দোলাকে হুবহু অক্ষত রেখে অনুবাদ করতে হবে, এবং খেয়াল রাখতে হবে, পড়তে যেন নিছক শিশুতোষ ছড়ার মত না শোনায় | আর্নল্ড বাকে বলে এক ব্যক্তি বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এই কাজটি করেছেন, এবং এর রেকর্ড-ও রেখে গেছেন, যদিও অধুনা তাঁর কথা আমরা কম শুনেছি
 
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, সুর, ছন্দ, ভাষার অন্যান্য অলংকার ও সৌন্দর্য্য বজায় না রেখেও, সুরের স্মৃতিকে সম্বল করে শুধুমাত্র গানের নির্যাসকে তর্জমায় রূপান্তর খুবই দুরূহ | অথচ কোনো একসময় অনুবাদ তার নিজের পায়ে দাঁড়ায়, অনুকরণ মানেনা, তর্জমার কাজ তখন সৃষ্টির খুব কাছাকাছি, তাই তাকে অনুবাদ না বলে অনুসৃজন, বা transcreation বলা যায় | তর্জমা তখন শিল্পকর্মের মত স্বকীয়, এবং তখন একই গানের একাধিক অনুবাদ সমান্তরাল ভাবেই সার্থক হতে পারে, এদের প্রতিতুলনা অর্থহীন হতে পারে |

প্রথম যখন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনোর জন্য এলাম, তখন এক নতুন সমস্যা দেখা দেয় | রবীন্দ্রনাথের গান আমার বাংলা-না-জানা বন্ধুদের সঙ্গে এক সঙ্গে গাইতে পারার উদ্দেশে প্রথমে অনুবাদ করে তা ওদের বোঝানোর দরকার ছিল | এই গানগুলি অনুবাদের পর অনেক মার্কিন ছেলেমেয়ের মনে স্থান পায়, সেটি লক্ষ্য করে প্রাণিত বোধ করি | পরে, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠা এক ভারতীয় নৃত্য একাডেমী আমাকে তাঁদের অনুষ্ঠানের জন্যে রবীন্দ্রনাথের শাপমোচন ও চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের অনুবাদ করতে অনুরোধ করেন | আরও পরে, প্রতি সপ্তাহে লম্বা দূরত্ব পাড়ির সময়, পথের অবসাদ ভুলে থাকার জন্য, আমি আবার রবীন্দ্রনাথের অনুবাদে ফিরে আসি |

অনুবাদগুলি একত্র করে, সংরক্ষণ করার প্রয়াস আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু রুমেলা সেনগুপ্তর | একসময় সে-ই আমার ও তাঁর নিজের অনুবাদের একটি নিজস্ব পরিপাটি জায়গা তৈরী করে দেয় | আমরা Gitabitan in English (http://gitabitan-en.blogspot.com) নামের একটি ব্লগে আমাদের অনুবাদকে ধারাবাহিক ভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হই | রুমেলার অসংখ্য প্রতিভার মধ্যে একটি তাঁর শিল্পী সত্ত্বা, যেটি এই ব্লগ নির্মাণের সময় তার সাক্ষর রাখে এর অসামান্য সৌন্দর্য্যে | এই ব্লগ আমাদের খেলার আকাশ, কাজের নিভৃত আশ্রয় হয়ে ওঠে | ২০০৯ নির্মিত এই ব্লগে এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাতশটি গানের অনুবাদ হয়েছে | রবীন্দ্রনাথ নিজে ২২০০ এর বেশি গান রচনা করেছিলেন, কাজেই পুরো গানের ভাঁড়ার ছোঁয়ার এখনো অনেক বাকি | এই অনুবাদের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সৃজনশীল শেকড়ে, অন্তরের আশ্রয়ে ফিরে আসি, রবীন্দ্রনাথের অনুরাগীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরী হয়, এবং বাংলা-না-জানা বিশ্বে, ওঁর গান যাঁদের ছুঁতে পারে, তাদের কাছে হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, কিছুটা হলেও |
 
এই ব্লগের তর্জমাগুলি সাধারণত আমাদের নিজেদের প্রাত্যহিক অনুভব, অভিজ্ঞতা, পথ চলা দিয়ে অনুরণিত হয় | আমাদের রোজকার অনুবাদের বাছাই সেভাবেই কাজ করে | তবে তার সঙ্গেসঙ্গে সমাজের ও সময়ের সঙ্গেও স্পন্দিত হয়ে থাকে | কেউ কেউ কখনো কোনো বিশেষ অনুবাদের প্রয়োজনে ফরমায়েশ জানালে আমরা খুবই খুশী হয়ে সেই প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করেছি|

আমরা লক্ষ্য করি, এই ব্লগের মতামত পেশ করার ছোট পরিসরে অনেক মানুষ তাঁদের মতামত ব্যক্ত করতে চেয়েছেন.. কাজেই বৃহত্তর আড্ডা-ঘর হিসেবে ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খোলে রুমেলা, নাম দেয়, Thoughts of Tagore | এই গ্রুপেই আমরা নতুন কোনো অনুবাদ পোস্ট করে দিই | অনেকে এগিয়ে এসেছেন সহমর্মিতা ও সময় নিয়ে, এক ধরনের রবীন্দ্র-গানের চর্চায়, গঠনমূলক সমালোচনায় | উদ্দেশ্য, গানের অন্তর্নিহিত শক্তি, প্রাণ, ভাব, ছবি যেন ঠিক মত বেরিয়ে আসে...পাঠক হিসেবে তাঁরা তাদের যে মূল্যবান সমালোচনা দিয়েছেন, তার জন্যই আজকে গানের অনুবাদ কিছুটা হলেও মোক্ষম হতে পেরেছে | এঁরা হলেন আমাদের সহ-স্রষ্টা: সুমন দাসগুপ্ত, সৌম্য শংকর বসু, অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় এবং আরো অনেকে

 আমাদের এই ব্লগের সঙ্গেই সৃষ্টি হয় আরেকটি ব্লগ, যেখানে গান ছাড়া রবীন্দ্রনাথের বাকী কবিতার অনুবাদগুলি সংরক্ষিত হয়:  Tagore Poems in English (http://tagore-poems-en.blogspot.com/)... এতে সুব্রত মজুমদার, রুমেলা ইত্যাদি অনুবাদকরা আছেন, তবে মূলত এর তর্জমার স্রষ্টা, আমাদের আরেকজন শিল্পী বন্ধু, দেবযানী চক্রবর্তী | দেবযানীর সঙ্গে পরিচয় হঠাত-দেখার মতই আকস্মিক, এবং তার অপার, অসাধারণ সৌন্দর্য্য ও প্রতিভার নাগাল পাওয়ার যে বিন্দুমাত্র একটি অবকাশ এই ব্লগের অনুবাদের মাধ্যমে আমি পাই, এতে খুবই খুশি ও কৃতার্থ বোধ করি | তাঁর কবিতার অনুবাদে অন্য এক সুবাতাসের পরিচয় পেয়েছি, যা আমার ভাষাগত বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাকে অনেকটা সাহায্য করেছে |

রবীন্দ্রনাথের গানের বাণীতে সময়ের ভাঁজ পড়েনি, এই অজরতা, সার্বজনীনতার একটা সুবিধে আছে ঠিকই, অর্থাত্ এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভাবতে হয় না, কিন্তু তর্জমার মূল প্রতিবন্ধকতা এর ভাষা, শৈলীকে সমসাময়িক, বিশ্বগ্রাহী করে গড়ে তোলা, যেন তা মহাদেশ ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে | এই শেষের কাজ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হয় অনেকটাই | 

সম্প্রতি বাংলাদেশে একজন প্রবীণ মার্কিন ভদ্রলোকের দেখা পাই, যিনি বহুদিন সে দেশে বসবাস করেছেন, এবং স্বচ্ছন্দে বাংলা বলতে পারেন | শুধু তাই নয়, ১৫ বছর ধরে তিনি রবীন্দ্রনাথের গানের অনুবাদ করে চলেছেন, এবং বাংলা ও ইংরিজি দুই ভাষাতেই গানগুলি গেয়ে চলেছেন | তাঁর নাম জন থর্প | অনুবাদগুলি তাঁর নিজের | তাঁর বলিষ্ঠ, সুললিত গায়কী এবং মোক্ষম তর্জমার জন্যই হয়ত, গানগুলি শুনতে একটুও বেকায়দা শোনাচ্ছে না | ইতিপূর্বে আমার শ্রদ্ধাভাজন অনেক মানুষ, সুশীলকাকু তাঁদের অন্যতম, এই বিষয়ে আমাকে উত্সাহ দিয়েছেন | কাজেই জনের অনুবাদ ও গান শুনে আমি নতুন উদ্যমে গানের ছন্দ বজায় রেখে অন্ত্যঃমিল বজায় রেখে(গান করার জন্য) ইংরিজি অনুবাদ শুরু করি | এটি যেমন প্রেরণাদায়ক তেমনি সময়সাধ্য বিষয়, সেটা বুঝতে দেরী হয় না | এতে অনেক খানিকটা পরীক্ষানীরিক্ষার ব্যাপার আছে--এখনো এই ব্যাপারে আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এর বাধা ও আলো পথকে উস্কে দিচ্ছে| 

আমার নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রথম থেকেই আমি উত্কন্ঠায় আছি-- আমি ইংরিজি সাহিত্যিক নই, এমনকি সাহিত্যের ছাত্রও নই | সাহিত্যিক সীমাবদ্ধতা আমাকে বিড়ম্বিত করে | সুতরাং বহুসময় অনেক পরিশ্রমী, আন্তরিক পাঠকের কাছে যখন খুঁটিনাটি দিকনির্দেশ বা সৃজনশীল সমালোচনা পেয়েছি, তখন তা সমাদরের সঙ্গে গ্রহণ করেছি| সাহিত্যের সঙ্গে একটি আত্মীয়তা, একটি জোরালো সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করি, সমসাময়িক ইংরিজি সাহিত্যের বলিষ্ঠ লেখক, দার্শনিক, কবিদের লেখা পড়ার চেষ্টা করি | কিছু অসাধারণ লেখকের কাজ আমাকে গভীরভাবে প্রাণিত করে চলেছে |
আমার মতে, অনুসৃজনের সময়, সৃষ্টির আবেগ, দীপ্তি, জীবন, জগত সম্পর্কে একটি দুর্দান্ত প্রেরণার ঢেউয়ে ভেসে না গেলে ঠিকমত তর্জমা করা যায় না | এই প্রেরণাই নিজেদের প্রাত্যহিকতার ধুলো ও মলিনতা দূর করে, গভীর ক্ষত নিরাময় করে | এই প্রেরণা না থাকলে সৃষ্টি বৈভবহীন, শুকনো | এই শুষ্কতার অভিজ্ঞতা আমার অনেকবার হয়েছে | তবু মাঝেমধ্যে একভাবে বসে তর্জমা করতে হয় – প্রথম খসড়া অনেক সময় মনের মত হয় না | তবু তা পরবর্তী খসড়ার জন্য সিঁড়ি বা কঙ্কাল হিসেবে কাজে আসে | ক্রমশ হাতুড়ি পেটানোর মত অনেক ঢালাই-পেটাই করতে হয় – অপ্রয়োজনীয়, অপরিশ্রুত অংশ ছেঁটে ফেলতে হয়, যতক্ষণ না ঠিক যতটুকু দরকার বলে মনে হয়, ততটুকুই বাকি থেকে যায়| ভাষা নিজেই এমন তরল এবং সর্বগ্রাসী | সঠিক জিনিসটিকে টেনে নেবার চুম্বকীয় আকর্ষণ, গলিয়ে নেবার দ্রাব্যতা আছে ভাষার | ভাষার আকর্ষণ অনুসৃজনের একটি দিক | রবীন্দ্রসংগীত শুধুমাত্র আত্মিক নয়, ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য অনুভূতির জিনিসও বটে | এই অসাধারণ প্রকাশভঙ্গী ও অন্তর্লীন গভীরতাকে ধারণ করার ক্ষমতা তৈরী করার একটা দুর্দান্ত আবেগ অনুসৃজকের দায়িত্ব, এবং এই দায়িত্ব আসলে তার স্বাধীনতাই | তার কাজ গানটির সুর ও শব্দকে, এর ভাষা ও প্রকাশভঙ্গীকে সম্পূর্ণ আত্মস্থ ও নিজস্ব করে তোলা | তর্জমা যেন অন্য ভাষায় গানটিকে মজুদ করার দীন চেষ্টায় পর্যবসিত না হয়, যেন অনুসৃজকের হৃদ-যন্ত্রের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে এর জন্ম-প্রক্রিয়া| 

ইংরিজি ভাষার প্রবচন, বাগধারা, ভাষার সূক্ষ্মতা, শাব্দিকতা, ধ্বনি, অনুপ্রাস, এগুলি সবই সময়-অসময় মনে টুকে রেখে পরে ব্যবহার করার চেষ্টা করি | এতে প্রয়োজনের সময় ঝোলায় কিছু দরকারী সামগ্রী মজুদ পাওয়া যায় | মনে আছে শব্দের মোক্ষম ব্যবহার নিয়ে অনেক আগে কথা-সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেছিলেন, শব্দকে তীরের মত মোক্ষম ভাবে ধরতে হয়, অর্থভেদী বান দিয়ে, অনুবাদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য|  

লেখার প্রথম ড্রাফটের পরে অসংখ্য বার কলম চালাতে হতে পারে, এবং আমার ক্ষেত্রে সাধারণত হয়, যতক্ষণ মনে হয় এর বেশি আমার কিছু করার ছিল না, তবু এক মাস পরে ফিরে এলে কোনো কোনো সময় অন্য ভাবে কলম ধরতেও ইচ্ছে করে | 

এছাড়া রবীন্দ্রনাথের প্রতি আগ্রহ আশৈশব, পারিবারিক ভাবে সেটি পাওয়া| আমার ঠাকুরদা সুবোধচন্দ্র মজুমদার, খুলনায় রাবীন্দ্রিক ও সাংস্কৃতিক আবহাওয়া তৈরীর অগ্রগণ্য এবং অবিভক্ত ভারতবর্ষে রবীন্দ্রসংগীত প্রচারে পুরোধা ছিলেন | মাত্র ত্রিশ বছর বয়েসে তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মূল স্বরলিপিকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সঙ্গে স্বরলিপি প্রসঙ্গে মৌলিক আলোচনা করেছেন, কলকাতার সঙ্গীত একাডেমিতে ওস্তাদ এনায়েত খান-এর কাছে সেতারে তালিম নিয়েছেন, নিজের বাড়িতে এস্রাজ, খোল, পাখোয়াজ, তবলা, হারমোনিয়াম, বাঁশী, সেতার, বেহালা নিজের সাত সন্তানকে ও স্থানীয় শিল্পীদের শিখিয়েছেন, এছাড়া গানে সুর দেওয়া, রবীন্দ্রনাথের গান নিজে স্বাধীন ভাবে রপ্ত করে, তা সমাজ ও দেশের স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, রবীন্দ্রনাটক ও নৃত্যনাট্য পরিচালনা করা, নানা রকম রাগ-রাগিনীর তালিম দেওয়া তো ছিলই | প্রখ্যাত শিল্পীরা অল্প বয়েসে সেই সময় তাঁর কাছে সঙ্গীতচর্চার জন্য এসেছেন
 
আমার পিসি ঊমা মজুমদার-এর গানের কন্ঠ ও দক্ষতা প্রবাদপ্রতিম, প্রথমত পিতা সুবোধচন্দ্র মজুমদার তাঁর সঙ্গীত শিক্ষক এবং তারপর, কলকাতার রবীন্দ্রসংগীতের বিশেষ শিক্ষায়তন গীতবিতান-এ পড়াশুনো করেন তিনি | এখানে তাঁর গুরুমশাই ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতের ওস্তাদ, অনাদি দস্তিদার, কনক দাস (বিশ্বাস), নীহার বিন্দু সেন, রমেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ | পিসি মুক্তি মজুমদার অসাধারণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, বহু প্রতিভার অধিকারী, এবং রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের প্রধান থেকে শুরু করে খুলনার সাংস্কৃতিক জগতে পুরোধা ছিলেন, এখনো আছেন, রবীন্দ্রসংগীত চর্চার জগতে তাঁর অবদান সংশ্লিষ্ট সকলে জানেন | আমার মা দীপিকা মজুমদার রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রতে, অনেক বছর ধরে নিয়োজিত | আমার বাবা সুব্রত মজুমদার বাংলাদেশের বহু প্রখ্যাত শিল্পীর সঙ্গীতশিক্ষক, গানের ব্যাপারে তার পান্ডিত্য অগাধ, বাংলাদেশের রবীন্দ্রসংগীতের চর্চার শুরু তাঁর হাত দিয়ে | তাঁর প্রতিভা নানামুখী | বয়স যখন বিশের কোঠায় সেসময় তিনি রবীন্দ্রসংগীতের যে অনুবাদ করতেন, সেগুলি তাঁদের পারিবারিক সাময়িকীতে বের হবার সুবাদে আমার হাতে আসে | বোধের গভীরতা আর ভাষার দখল দেখে কতটা প্রাণিত হয়েছিলাম মনে আছে | কাজেই অনেক কিছুর মত, রবীন্দ্রনাথের অনুবাদের বিষয়টিও আমার পরিবার থেকে পাওয়া
 
আমার জন্য রবীন্দ্রনাথের গানের অনুবাদের অভিজ্ঞতা এই; এ পথে যে চড়াই-উতরাই, হতাশা, উদ্যম, প্রেরণা বা শিক্ষা পেয়েছি, তাই ওপরে লিখলাম |